যারা নৌকায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে তাবু গেড়ে যাযাবর জীবন যাপন করে, তাদেরকে ‘বেদে’ বলে। বেদের সংস্কৃতি, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান, কাজ-কর্ম একটু ব্যতিক্রম। সাপ খেলা, শিংগা লাগানো, ঝাঁড়ফুক, আর চুরি-ফিতা বিক্রিই তাদের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম। বিয়ের পর সাধারণত স্ত্রীকে জীবিকা-উপার্জন আর স্বামীকে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বভার নিতে হয়।
সরকারি গবেষণামতে, প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে বেদেরা এদেশে আগমন করলেও এখনো তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। বেসরকারি তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ বেদে বসবাস করেন।
নৌকা-ই তাদের মূল বাসস্থান। নৌকার এক মাথায় রান্নার চুলা, আরেক মাথায় টয়লেট। সেই নোংরা পানি দিয়েই রান্না, গোসল ও খাওয়া-দাওয়া। একই নৌকায় স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, পুত্রবধূ ও মেয়ের জামাতার রাত্র যাপন। ঈমান, হায়া ও নুন্যতম মানবিক মূল্যবোধ কিছুই নেই তাদের মাঝে। এরকম একটি যাযাবর অবহেলিত পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের কাছে কুরআনের আলো ও নৈতিকার শিক্ষা পৌঁছানোর দায়িত্ব ছিলো সময়ের দাবি। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা বেদেপল্লীগুলোতে তিন ধরনের মক্তব চালু করেছি।
১. বাচ্চাদের জন্য ছবাহী মক্তব (মেয়েদের বয়স ৭ বছরের বেশি নয়)।
২. বয়স্ক পুরুষদের জন্য কুরআন ও মাসআলা শিক্ষার ক্লাস (রাতে)।
৩. বয়স্কা নারীদের জন্য কুরআন ও মাসআলা শিক্ষার ক্লাস (বিকালে)।
(দাঈ আলেমা দ্বারা নারীদের ক্লাস পরিচালনা করা হয়)। আলহামদুলিল্লাহ, ইতোমধ্যে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও পঞ্চগড়সহ দেশেন বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য বেদেপল্লীতে মক্ত চালু করে তাদেরকে নিয়মিত কুরআন ও নৈতিকতা শিক্ষা দিচ্ছি। আমাদের ইচ্ছা, আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা বেদেপল্লীতে এই তিন ধরনের মক্তব চালু করে তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা। আসুন-আমরা সবাই মানবতার এই কাফেলায় শরিক হই।